প্রেক্ষাপট

মানুষ হিসাবে যখন জন্মেছি তখন কিছু না কিছু করে খেতে তো হবেই। ব্যাপারটা আসলে শুধু মানুষই নয় বরং সব প্রানীর বেলাতেই প্রযোজ্য। আমিও যেহেতু মানুষ, সুতরাং আমার বেলাতেই এটা প্রযোজ্য হবে না কেন?

কিন্তু জীবনের প্রায় ২৪-২৫ বছর পর্যন্ত, অর্থাৎ আমার প্রফেশনাল লাইফ শুরু করার আগ পর্যন্ত আমি আমার জীবনে যে কি করতে চাই, সেটাই কখনো ভেবে দেখিনি। ওই যেটা বলে, এইম ইন লাইফ। এই ব্যাপারটা কখনই সিরিয়াসলি ভেবে দেখিনি।

আমি বড় হয়ে অমুক হব বা অমুক হতে চাই, এরকম কোন ব্যাপারই আমার কোনকালে ছিলো না। পড়াশুনার ব্যপারেও আমি যে খুব সিরিয়াস ছিলাম, সেটাও বলা যাবে না। আমার বরাবরি, সবকিছুতেই করতে হবে বলে করছি, এরকম ব্যাপারটা বেশী কাজ করত। তবে ছাত্র হিসেবে খুব বেশী খারাপ ছিলাম না কোনকালেই।

আলাদাভাবে কোনকিছু খুব বেশী ভালোলাগা, এরকম কোন কিছু তেমন একটা ছিলো না। আমার স্ত্রীও বলে, আমি নাকি বেশী নির্লিপ্ত প্রকৃতির।

যাহোক, যখন সময় আসলেই ঘনিয়ে আসলো যে আমাকে একটা কিছু করে আয় করতে হবে, তখন আমি রিতীমত বিপদে পড়ে গেলাম ডিসিশন নেয়ার ক্ষেত্রে। আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না আসলে আমি কি করতে চাই।

সারাজীবন বাবাকে দেখেছি চাকরি করতে। প্রথমে আর্মিতে, পরে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে। ভাবতাম চাকরীই আমাকে করতে হবে। তাছাড়া বাবা মা, দুজনেই সবসময় ইনসিস্ট করত চাকারির ব্যাপারে। টিপিক্যাল বাংগালী বাবা মায়েরা যেমন হয় আমাদের জেনারেশনে (৮০-৯০ দশকের জেনারেশন), তেমনটাই আরকি।

ছোটবেলা থেকেই আমাদের জেনারেশনের বাবা মায়েরা এটা বলে এসেছে যে, ভালো করে পড়াশুনা করে বড় চাকরী করবে। এই ব্যাপারটা বলতে বলতে ছেলেমেয়েদের মাথায় ব্যাপারটা এমনভাবে গেথে যায় যে ওরাও ভাবে চাকরী ছাড়া আর কোনকিছু করে জীবিকা নির্বাহ মনে হয় করা যায় না।

প্রথম চাকরির অফার

অতএব, যখন সময় আসলো তখন মরিয়া হয়ে চাকরী খুজতে শুরু করলাম। পেয়েও গেলাম একটা। আইটি সেক্টরের একটা জব। একটা আউটসোর্সিং ফার্ম। সেটা ২০০৫ সালে কথা। বসটা একজন বিদেশী, একজন সিংগাপুরিয়ান। 

ইন্টারভিউ দিয়ে আমার কাছে লোকটাকে বেশ ভালো লেগেছিল। চাকরী, কনফার্ম কিন্তু একটা শর্ত দিলো যে, ৩ মাস ট্রেনিং করে মিনিমাম ৬ মাস তার ওখানে কাজ করতে হবে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ৯ মাসের নোরিটার্ন কমিট্মেন্ট।

দুর্ভাগ্যবশত (আমি দুর্ভাগ্যই বলব কারন পরে সেটা বুঝেছি), আমাদের ২য় তলায় এক আংকেল, মেজর আজম, উনি একটা লোকাল বড় গার্মেন্টস গ্রুপ অফ কোম্পানীতে কাজ করতেন। কোম্পানীটার নাম পলমল গ্রুপ। উনি আমাকে বলে আসছিলেন যে আমি তার কোম্পানীতে জয়েন করতে পারি একজন এডমিন অফিসার হিসাবে।

প্রায় ৪-৫ মাস ধরে উনি আমাকে ঘুরাচ্ছিলেন। যখন এই আই টি ফার্ম থেকে জব অফারটা পেলাম, তখন বাবা বলল যে একবার মেজর আজমের সাথে কথা বলতে। আসলে আমার বাবা কিংবা তার জেনারেশনের কেউই আই টি ব্যাপারটার সাথে অত পরিচিত না।

বাবার কথামত অফারটা নিয়ে মেজর আজমের সাথে কথা বললাম। তাকে জানালাম আমাকে ২ দিনের মধ্যেই ওই কোম্পানীর বসটাকে জানাতে হবে যে আমি জয়েন করব কিনা! মেজর আযমকে ওই কোম্পানীর কাজকর্ম সম্পর্কে একটা ধারনা দিলাম। উনি আসলে কিছুই বুঝলো না কারন উনিও আমার বাবার মতই আই টি সম্পর্কে কোন ধারনা রাখতেন না। আসলে ওই সময় আই টি ব্যাপারটাই আমাদের দেশে একেবারেই নতুন কন্সেপ্ট।

মেজর আজম পরদিনই আমাকে তার অফিসে দেখা করতে বললেন। উনি ওই সময় পলমল গ্রুপের এডমিন এন্ড কমপ্লায়েন্স ডিপার্ট্মেন্টের জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন। উনার ডিপার্ট্মেন্ট বড় হচ্ছিলো আর উনার লোক লাগতো। আমাকে বলতে গেলে উনি একটা সুযোগ করে দিলেন। মনে মনে ওই সময় উনাকে ধন্যবাদ জানালেও পরে বুঝেছিলাম উনি আমার ক্যারিয়ারের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন।

চাকরি জীবনের শুরু

একটা ভালো সম্ভামনাময় খাতে শুরু থেকে না জড়িয়ে এমন একটা ট্র্যাকে ঢুকে পড়লাম যার কোন ভবিষ্যত নেই। আর আমাদের দেশে কে কোন সাব্জেক্টে পড়ে চাকরীতে ঢুকছে সেটা বড় ব্যাপার না, প্রথম যে সেগমেন্টশনে ঢুকেছে ওইটাই সারাজীবনের জন্য ফিক্সড হয়ে গেলো।

কেন বলছি মেজর আযম আমার ক্যারিয়ারের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন, তার কারন হল, উনি চাইলেই আমাকে কমপ্লায়েন্স ডিপার্ট্মেন্টে নিতে পারতেন। আমি হয়ত ওই সময় জানতাম না, কিন্তু উনিতো জানতেন যে এডমিনে কোন ভবিষ্যত নেই, কিন্তু কমপ্লায়েন্সে আছে। আর আমার যা যোগ্যতা, তাতে করে আমি আনায়াসেই কমপ্লায়েন্সে কাজ করতে পারতাম।

যাহোক, আমার মুল্যায়ন, ওই চাকরিতে ঢুকে আমি আমার জীবনের পরবর্তী ৭-৮ টা বছর নষ্ট করেছি।

কারন ক্যারিয়ারে উন্নতির জন্য যখনি আমি চাকরী পরিবর্তিন করতে চেয়েছি, দেখেছি এক এ্যাডমিন ছাড়া আর অন্য কোন ডিপার্ট্মেন্টে আমাকে ডাকে না। আর এই এডমিনে বাংলাদেশে সারাজীবন চাকরী করে শেষ পর্যন্ত খুব বেশী হলে এক থেকে সোয়া এক লক্ষ টাকার বেতন হইতে পারে, এর বেশী জীবনেও যাবে না।

ওই মেজর আজম, আজও ঐ পলমলে আছে ডিরেক্টর হিসাবে। যদি ভুল না জানি তাহলে উনার বেতন একলাখ বিশ পচিশ হাজারের বেশী হবে না। আর উনি ওখানে কাজ করছে সম্ভবত ২০-২২ বছরের উপরে।

আর যাই হোক, আমার দৃষ্টিতে এটা কর্মজিবনের কোন উন্নতি না।

আমার উপলব্ধি

যাহোক চাকরিতে জয়েন করে আরেকটা বিষয় উপলব্ধি করতে পারলাম যে চাকরিটা হচ্ছে পুরোপুরি গোলামী একটা ব্যাপার। পাবলিক সার্ভন্ট হিসেবে নিজেকে সম্মানিত বোধ করা যায়, কিন্তু ব্যাক্তিমানিকানাধীন কোম্পানীতে সিম্পলি একটা চাকর ছাড়া নিজেকে বেশী কিছু ভাবা যায় না।

হয়ত মানুষের কাছে এতে সম্মান আছে, কিন্তু আমার চোখে নেই। প্রতিনিয়ত নিজেকে অসম্মানিত বোধ করতে থাকলাম এই চাকরিতে জয়েন করার পর। আমার কাজের যোগ্যতা নিয়ে কারও কোন দ্বিমত না থাকলেও, আমার নিয়ম মেনে চলা নিয়ে সবার বাকা দৃষ্টি আমি বেশ ভালোমত উপলব্ধি করতে পারতাম।

উপরন্তু আরেকটা ব্যাপার প্রতিনিয়ত খেয়াল করতে থাকলাম যে, আমার কোন কাজের কখনই কোন এ্যাপ্রিসিয়েশন নেই। আমার প্রথম রিপোর্টিং বস ছিলেন একজন বয়স্ক ভদ্রলোক, আশ্রাফ আলী। আমি যখন তার আধীনে জয়েন করি তখনই বলতে গেলে তার রিটায়ারের বয়স হয়ে গেছিলো।

আশ্চর্য্যের বিষয় হল যে, উনার মত একজন বয়স্ক লোক, আমার করে দেয়ার কাজের ক্রেডিট অবলিলায় উনার বসের সামনে অর্থাৎ মেজর আজমের সামনে নিজের কাজ বলে চালিয়ে দিচ্ছেন, একবার আমার নামটা পর্যন্ত নিচ্ছেন না।

প্রথম প্রথম অবাক হইলেও পরে বুঝলাম এটাই আমাদের দেশের চাকরির বাজারের স্বাভাবিক চর্চা। কিন্ত্য, সত্যি বলতে কি আমি এটা মেনে নিতে পারিনি আর তার ফলশ্রুতিতে আশ্রাফ আলীর প্রতি আমার কোন সম্মানবোধও থাকলো না।

ভেবেছিলাম, লোকাল কোম্পানী বলেই হয়ত এরকম। এজন্য মনে প্রানে চেষ্টা করতে লাগলাম চাকরী পরিবর্তনের জন্য। পেয়েও গেলাম একটা মাল্টিন্যাশনাল কম্পানীতে ২০০৯ সালে। নাম নরোয়েষ্ট ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড। কোম্পানীটা ছিলো একটা ইন্ডিয়ান মালিকানাধীন কোম্পানী।

খুব বেশী একটা পার্থক্য চোখে পড়লনা ওখানে। ভাবলাম, হয়ত ইন্ডিয়ান বলে। আবার চেষ্টা শুরু করলাম য়ার পেয়েও গেলাম ছয় মাসের মাথায়। এবার আরেকটা মাল্টিন্যাশনাল কম্পানি, লি এন্ড ফুং।

এটা বাংলাদেশে ব্যাবসা করা একটা বিশাল ফরেন কোম্পানী। জয়েন করলাম ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে। বেতন ভালো, চাকরীর পরিবেশ ভালো, আবার সাপ্তাহিক ছুটিটাও ছিলো দুই দিন। সবমিলিইয়ে ভাবলাম এবার হয়ত সব ঠিকঠাক থাকবে।

কিন্তু আসলে না। কোম্পানী বাইরের হলে কি হবে, রিপোর্টিং ম্যানেজার তো বাংগালী। তাছাড়া ম্যানেজেরিয়াল পদে সবই বাংগালী। আর টপ ম্যানেজমেন্ট পোষ্টে হয় ইন্ডিয়ান নয়ত শ্রীলংকান, যেগুলো আবার আমাদের থেকেও বেশী চরিত্রহীন।

এখানে আমার ডিপার্ট্মেন্টের ম্যানেজার, মোজাম্মেল হকে কথা না বললেই নয়। আমার দেখা আমার জীবনের সবচাইতে চামার টাইপের লোক ছিলো ওটা 😅। চেহারাছবি আর গেটাপ এমন ছিলো যে একটা স্যান্ডো গ্যাঞ্জি আর আর একটা লুঙ্গি পরিইয়ে রাস্তায় বসিয়ে দিলে যে কেউ ভাববে মুচি 😂।

তো তার বেসিক্যালি তেমন কোন কাজ কর্ম ছিলোনা বললেই চলে। সে চাইতো, তার জুনিয়ররা ঘন্টায় একবার দুইবার তার কাছে গিইয়ে তাকে তেল মেরে আসুক। হাস্যকর আর আজব টাইপের একতা চিড়িয়া ছিলো ওটা।

আমার তেল মারা অভ্যাস ছিলো না আবার কাজ করে সময় পেতাম না বলেও ওরে আমার পক্ষে তেল মারা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ফল হিসেবে অল্পকয়েকিদিনের মধ্যেই ওর চক্ষুশূল হয়ে গেলাম। 

এরমধ্যে ২০১২ সালে বাবা ভীষন অসুস্থ হয়ে পড়ার কারনে চাক্রী বাসা, আর হস্পিটাল করতে করতে কাজকর্মে সব তাল্গোল পেকে গেলো। আর ওই চামারও সু্যোগ পেয়ে গেলো আমার বিরুদ্ধে কমপ্লেইন করার। বাধ্য হয়ে ২০১২ সালেই চাকরী ছেড়ে দিতে হলো।

সবমিলিয়ে বুঝতে পারলাম যে, আসলে আমার দ্বারা চাকরী বাকরী হবে না। তবে হ্যা, চাকরী জীবনে অনেক ভালো কলিগ পেয়েছি। যারা আমার কাজের জন্য, আমার ব্যাবহারের জন্য আজও সম্মান করে ভীষন আর ভালোওবাসে। কিন্তু দূর্ভাগ্য যে সিনিয়র কারো সাথে আমার কোনদিন বিবনা হলো না।

ফ্লীল্যান্সিং ক্যারিয়ারের শুরু

বাবা মারা যাওয়ার পরে আবার চাকরিতে জয়েন করেছিলাম। সর্বশেষ চাকরী করেছিলাম ২০১৪ সালে, একটা লোকাল কম্পানীতে। শোর টু শোর। লোকাল কিন্তু এটাও মোটামুটি একটা বড় কোম্পানীই ছিলো। এখানে কাজ করেছিলাম এডমিন এন্ড এইচ আর ম্যানেজার হিসেবে।

কিন্তু ওই সমস্যা এখানেও। এইচ আর ম্যানেজার হিসেবে যেন আমার মেইন কাজ হল লোক নিয়োগ আর ছাটাই করা। শ্রমিকদের মালিকের পক্ষনিয়ে নানাভাবে শোষন করা। এখানে কাজ করে এইচ আর এর কাজেই মানেই ভুলে গেলাম, আজব এক চাকরীর সংকৃতি আমাদের!

অবশেষে ২০১৪ সালেয় নভেম্বরে এই চাকরীও ছেড়ে দিলান অন্য কোন নতুন চাকরীতে জয়েন না করেই। কারন উদ্দেশ্য ছিলো ট্র্যাক চেঞ্জ করে ফেলবো ক্যারিয়ারের। ডিসিশন নিয়েছিলাম, ডিজিটাল মার্কেটিং শিখবো। আরো স্পেসিফিক্যালি বলতে গেলে এস.ই.ও শিখবো। শিখে ফ্রীল্যান্সিং মার্কেতপ্লেসে কাজ করব।

হাতে ৬ মাসের মত টাকা জমানো ছিলো। ডিসিশন নিলাম, এই ৬ মাসের মধ্যে যদি কিছু করতে না পারি, তাহলে দরকার হয় আবার চাকরীতেই জয়েন করব। ব্যাপারটা আমার জন্য অতটা সহজও ছিলো না, কারন আমার উপরে আমার স্ত্রী আর আরো ২ কন্যা সন্তানের দায়ভার ছিলো।

উপরুন্ত বাংলাদেশে এই অনলাইনে কাজ করার ব্যাপারটাই একেবারে নতুন কন্সেপ্ট ছিলো। কেউ আসলে বুঝেই না কিভাবে অনলাইনে কাজ করে আয় রোজগার করা যায়। সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে থেকে পড়াশুনা করা বা কাজ করা দেখলে আসলে কেউ বুঝতো না কি করছি, কারন তখনও পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষের ধারনা কম্পিউটারে বসে কোঙ্কিছু করা মানেই ফেসবুকিং করা 😂।

সর্বশেষ যেখানে চাকরি করতাম সেখানে আমার বেতন ছিলো ৪৫০০০ টাকা। চাকরি ছাড়ার পরে একটা লোকাল রিয়েল এষ্টেট কোম্পানী থেকে ৬০০০০ টাকার একটা চাকরির অফারও পেলাম। বি ডি জবস-এর মাধ্যমে অনেক জায়গায় এপ্লিকেশন করে রেখেছিলাম, ওখান থেকেই কল করেছিলো। ইন্টারভিউ এ্যটেন্ডও করেছিলাম। অতঃপর, অফারও দিলো।

এই পরিস্থিতিটা ছিলো আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারন, একদিকে ছিলো নিশ্চিত স্যালারীর চাকরির অফার আর অন্যদিকে ছিলো কাজ শিখে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে নতুন ক্যারিয়ার তৈরী করার। 😶

অনেক ভেবেছিন্তে, স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিলাম চাকরিতে জয়েন করব না, বরং কাজ শিখে নতুন ক্যারিয়ার করব। একটা রিস্ক নিতেই চাচ্ছিলাম। স্ত্রী আমাকে সর্বোতভাবে সাপোর্ট করল। ও আমাকে সাপোর্ট না করলে হয়ত এই রিস্ক নিতে পারতাম কিনা জানিনা।

একটা কথা প্রচলিত আছে যে, কোন পুরুষের সাফল্যের পেছনে কোন মহিলার হাত থাকে। আমার ক্ষেত্রে আমার স্ত্রীর অবদান অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। ও যেভাবে আমাকে ওই সময় সাপোর্ট করেছে অন্য কেউ হইলে তা মনে হয় করত না। আমার মা-ই তো আমাকে সেভাবে সাপোর্ট করেনি ওই সময়। - এজন্য আমি সবসময় আমার স্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। 🥰

যাহোক, আমার এখন স্পষ্ট মনে আছে, ২০১৪ সালের নভেম্বরে আই টি বাড়ি নামের একটা প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে আমার স্ত্রী এস ই ও এর উপরে একটা সি ডি এনে দিয়ে বলেছিল, তুমি এটা ভালো করে দেখো। আসলে ওই সময় এস ই ও এর উপরে আমার বিন্দুমাত্র কোন ধারনা ছিলো না। এটা কিছু না হোক, আমি এ্যাটলিষ্ট একটা ধারনা পেয়েছিলাম।

পরের কয়েকটা মাস আমি একাধারে ১৪-১৫ ঘন্টা প্রতিদিন সময় করে বসে বসে পড়তাম বিভিন্ন ব্লগ আর প্র্যাক্টিস করতাম নিজের তৈরী করা একটা ওয়েবসাইটের উপরে। ওই সময় প্র্যাক্টিস করার জন্য একটা ডোমেইন-ও কিনেছিলাম, Freelancers HUB. এই সাই্রটে উপরেই করতাম আমার এস ই ও প্র্যাক্টিস।

প্রতিটা জিনিস পড়তাম আর এই ওয়াবসাইটের উপরে প্র্যাক্টিস করতাম। ওই সময় বয়সটাও এমন ছিলো যে কারো কাছে থেকে হেল্প নিয়ে শেখার উপায় ছিলো না। আই সব কিছু নিজে নিজে পড়ে প্র্যাক্টিক্যালি শেখার দরকার ছিলো।

নিজের প্রয়োজনে যেহেতু সাইট বানিয়েছিলাম, তাই আমার দরকার না থাকলেও ওয়ার্ডপ্রেসের উপরে সাইটটার ডিজাইনও আমাকে করতে হয়েছিলো। এতে এক্কাজে বলতে গেলে দুইটা কাজ হয়েছিলো। এস ই ও-এর পাশাপাশি ওয়েবসাইট ডিজাইনের কিছু আইডিয়া পেয়েছিলাম যা পরবর্তিতে টিম সুপারভাশনের কাজে অনেক হেল্প হয়েছে, ইন ফ্যাক্ট, এখনও হচ্ছে।

যাহোক, টানা ৩-৪ মাস একভাবে কাজ শেখার পরে, ২০১৫ সালের মার্চ মাসে প্রথম জব এ্যাপ্লাই করি আর আল্লাহর রহমতে প্রথম এ্যাপ্লিকেশনে একটা জবও পেয়ে যাই। তারপর থেকেই আমার ফ্রীল্যান্সিং ক্যারিয়ারের শুরু। আল্লাহর কাছে অসংখ্য ধন্যবাদ যে এরপর থেকে আমাকে আজ অবধি পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। 🙏