After


Before

২০-২২ বছর আগে যখন ব্যাঙ্গালোরে পড়তে গিয়েছিলাম তখন আমার এই দাঁতের বারোটা বাজিয়েছিলাম অনেকটা নিজ দায়িত্বে। এল্পেনলিভ চকলেট খেতাম প্রচুর পরিমানে। এতই বেশী যে প্রায় সময় মুখে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম।

মজার বিষয় হল, আমি জানতাম না যে আমার একটা দুধের দাঁত পড়েনি। তো একসময় হঠাৎ করেই বাম পাশের গজ দাতে ভীষণ ব্যাথা করতে শুরু করলে ডাক্তারের কাছে গেলাম। সেটা তাও ২০০৩ সালের ঘটনা। ডাক্তার দেখে বলল, আমার গজ দাঁতের নিচে আসল দাঁত উঠছে, জায়গা না পেয়ে নিচের দিকে বাঁকা ভাবে উঠতে শুরু করেছে 😂, কি একটা অদ্ভূত ব্যাপার।

নিচের আসল দাঁতটা যেহেতু পুরাই ভিতরের দিকে উঠেছে, সুতরাং, ডাক্তার সিদ্ধান্ত নিলো যে ওটাই কেটে উপড়ে তুলে ফেলে দুধের দাঁতটাকে বাচিয়ে রাখতে হবে মুখের সৌন্দর্য বজায় রাখতে হলে 😒

অগত্যা, বাধ্য হয়ে তাই করলাম। মুখের ভেতরে অর্ধেক দাঁতের উপরে ফিলিং আর একপাশে একটা দাঁতের অনুপস্থিতি নিয়ে জীবনের পরবর্তী ২০ টা বছর পার করে দিলাম।

মুখের ওই অবস্থা নিয়ে, প্রেম, বিয়ে সবই করলাম 🤣

আসলে মাঝে মধ্যে মনে হয়েছে গিয়ে দাঁতগুলো ঠিক করিয়ে আসি ডাক্তারের কাছে থেকে, কারণ কিছুদিন পরেই দাঁতের সব ফিলিং পড়ে গিয়ে বিচ্ছিরি দেখাচ্ছিল আমাকে। কিন্তু দাঁতের চিকিৎসা ব্যায়বহুল হওয়াতে সবসময় ভেবয়েছি পরে করাব। এর মধ্যে বউ, দুই মেয়ে আর মায়ের দাঁতের চিকিৎসা করিয়ে ঠিক করলাম, কিন্তু নিজেরটা আর করা হল না। আসলে আমরা পুরুষেরা এরকমই, কলুর বলদ টাইপের। 🤔 সবারটা করে দেয়া হয়, শুধু নিজের বেলায় হয় হিসাব, না হয় সময় নেই।

এখন এই বছর এসে মনে হল, নাহ, আমার দাঁতের আসলে একটা কিছু করা দরকার। আল্লাহ যদি সব সহি সালামতে পরিকল্পনা মাফিক চালিয়ে নিয়ে যান, তাহলে আগামী বছর কানাডাতে পাড়ি জমাতে পারি পরিবারসমেত। আর ওখানে দাঁতের চিকিৎসা মারাত্মক ব্যয়বহুল। তাই আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করে দিয়েছি।

শুরু তো করেছি বটে, কিন্তু করে যেন এক বিরাট ঝামেলায় পড়ে গেছি আর কি। মনে হচ্ছে যেন অনন্তকাল ধরে চলছে আমার এই দাঁতের পেছনে চিকিৎসা। ১ মাসের বেশী হয়ে গেলো যাচ্ছি আর আসছি। অবশ্য কাজও কম নয়। ৫ টা দাঁতের উপরে ব্রিজ, পুরো মুখের স্কেলিং, গোটা দশেক ফিলিং - মানে এক এলাহি কারবার আর কি 😋

আজকে গিয়েছিলাম, ফাইনাল স্যাম্পল রেডি হয়েছে। কালকে লাগিয়ে দিয়ে কাজ শেষ। এজন্য ভাবলাম একটা স্মৃতি তুলে রাখি। লিফটে উঠতে উঠতে তাই সেলফি নিয়ে রাখলাম। কেমন হয়েছে... ভন্ডুরা... 😁