এই গাড়িটা কিনেছিলাম ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে। আমার অনেক শখের গাড়ি। পুরোটা নিজের কামানো টাকায় কিনেছিলাম ৩২ লক্ষ টাকা দিয়ে।

মানুষ সাধারনত ব্যাংক থেকে লোন করে গাড়ি বা বাড়ি কেনে। আমি টাকা জমিয়ে জমিয়ে এই গাড়ি কিনেছিলাম কারন আমি আসলে লোন করে কোন সম্পদ কেনা একেবারেই পছন্দ না। দরকার হয় গাড়ি ছাড়া বা অন্যকোনভাবে চলব, কিন্তু লোন করে বিলাসিতা করা আমার মোটেও পছন্দের না।

আমার নিজের টাকায় কেনা কোন সম্পদ বলতে আমি ২০১১ সালে একটা বাইক কিনেছিলাম ব্যাংক থেকে লোন করে। লোনটা পরিশোধ করতে আমাকে বেশ বেগ পেতে হইছিলো। এরপর থেকেই মনে মনে ঠিক করেছিলাম যে কোন কিছু কিনতে চাইলে পুরোটাকা জমিয়ে তারপরেই কিনব।

এই গাড়ি কেনার আগে আমার আসলে কোন ভরসাই ছিলো না যে আমার নিজের টাকায় আমি কোন দামী জিনিস কিনতে পারব। আল্লাহ যে আমাকে এই যোগ্য ভেবেছেন, আমি তাতেই অনেক সম্মানিত বোধ করেছি।

গাড়িটা আমার এতই আদরের ছিলো যে খুব কমই ব্যাভার করতাম। ২০২১ এর ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ এর মার্চ পর্যন্ত, অর্থাৎ ২৭-২৮ মাসে আমি গাড়িটা চালিয়েছি মাত্র ৮০০০ কিলোমিটার। শোরুম কন্ডিশন বলতে যা বুঝায়, তাই ছিলো আসলে। ৩২ লক্ষ টাকা দিয়েই বিক্রী করে দিয়েছি আজকে।

বিক্রী করতে গিয়ে মনে মনে খুব কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু আমাকে এটা ছেড়ে দিতেই হত। আল্লাহ যদি আমার চেষ্ঠা সফল করেন, তাহলে হয়ত আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আমি কানাডাতে আমার পরিবার নিয়ে পাড়ি জমাবো সারাজীবনের জন্য। আমার ছেলে এই চলে যাওয়ার মূল উপলক্ষ্য।

আমার ছেলের জন্য আমি আমার শিকড় বাকড় সব উপড়ে ফেলে চলে যেতে চাইছি এমন এক জায়গায় যেখানে সে কোনদিন অপমানিত হবে না, সে সুন্দর একটা পরিবেশ পাবে যেখানে সে নিরাপদ থাকবে এবং সবাই তাকে সহজভাবে নিবে।

আমি জানি, আমার ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে হয়ত আমার এই স্যাক্রিফাইস, এই কষ্টের কথা তেমন একটা ফিল করবে না। তারা ভাববে, বাবার আসার দরকার ছিলো তাই আমাদের নিয়ে এসেছে। সে যা করেছে সেটা তাঁর নিজের কথা ভেবেই করেছে, আমাদের জন্য না। এটাই কিন্তু আসল বাস্তবতা।

গাড়িটা যখন চালিয়ে নিয়ে চলে গেলো, বুকের মধ্যে খুব কষ্ট হচ্ছিলো। হয়ত আল্লাহ আমাকে আরেকটা গাড়ি কেনার সামর্থ্য এবং সুযোগ দেবেন, কিন্তু এটার প্রতি যে ভালোবাসা আমার মনে ছিলো, সেরকম ভালোবাসা কি ওই গাড়ির প্রতি আমি অনুভব করব কিনা, আমি তা জানিনা।